ক্ষমা যেথা ক্ষীণ র্দুবলতা...হেরুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা ... তোমার আদশে।- ভাবসম্প্রসারণ

ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা

হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা

তােমার আদেশে।

ভাব-সম্প্রসারণ : ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ এবং মনুষ্যত্বের প্রধান গুণ ক্ষমার মাধ্যমে পরম করুণাময় স্রষ্টার ক্ষমাসুন্দর আশাবাদ দিব্য রূপে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। কিন্তু স্রষ্টার আশীর্বাদস্বরূপ সেই ক্ষমা যেখানে ব্যক্তির দুর্বলতা রূপে বিড়ম্বিত হয় সেখানে। নিষ্ঠুরতাও বিধাতার কাম্য।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষের সংস্কারহীন অন্তরেই ন্যায়বােধের উজ্জ্বল প্রকাশ। তার বিবেকের শুভ্র-পাষাণ বেদিতে ন্যায়ের আসন। পাতা। জাগতিক সকল কর্মেই অন্তরের সেই বিবেক-লােক থেকে ন্যায়ের নিরপেক্ষ নির্দেশ ঘােষিত হয়। বিবেকবান মানুষ। সেই নির্দেশ নীরবে পালন করে। কিন্তু বাইরের সমাজ-সংস্কারের নানা টানাপড়েনে বিবেকের নির্দেশ পালনে কখনাে কখনাে ব্যক্তির চিত্তে দুর্বলতা আসে। মানুষের এই স্বভাবসিদ্ধ দুর্বলতাই ক্ষমা, যা হৃদয়ঘটিত সহজাত ভাবাবেগে করুণায়। দোদুল্যমান ! ক্ষমা যেমন বিবেকের শুভ্র সমুজ্জ্বল অভিব্যক্তি তেমনই বিশ্ব-বিধাতার অনিন্দ্য সুন্দর মধুর প্রকাশ কিন্তু যারা দুষ্কৃতকারী, পাপিষ্ঠ, পামর, তারা এই মহৎ ক্ষমার মর্মোদ্ঘাটনে অক্ষম। তারা মানুষের হৃদয়ােৎসারিত ক্ষমাকে মনে করে অক্ষমের অক্ষমতা, অসহায়ের দুর্বলতা। তারা ভদ্রতাকে ভীরুতা ভেবে অসম্মান করে। তারা মহান ক্ষমাশীলের স্বর্গীয় ক্ষমাপরায়ণতাকে উপহাস করে। সেই উপহাস শুধু ক্ষমাপরায়ণতাকেই উপহাস নয়, তা মানুষের শুভ্র হৃদয়ের ক্ষমাশীলতাকে উপহাস; মহান স্রষ্টার ক্ষমাসুন্দর করুণাকে উপহাস আর এমনটা যখন ঘটে, তখন অসহায় মানবতাকে রক্ষা করার জন্য স্নিগ্ধ-সুন্দর ক্ষমা পরিহার করে মানুষকে ক্ষমাহীন নিষ্ঠুর রূপ ধারণ করতে হয়। তখন ক্ষমার উপহাসকারীকে উপযুক্ত দণ্ড প্রদানের প্রয়ােজন হয়ে পড়ে। সেই নির্মম দণ্ড বিশ্ববিধাতা সমর্থিত এবং মানবতার ধর্ম বলে বিবেচিত। বস্তুত প্রেম-প্রীতিঘন নন্দিত ক্ষমার মর্যাদার পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য নিষ্ঠুরতাও কাম্য। কেননা পাশবাত্মা দুষ্কৃতকারী ক্ষমাকে উপেক্ষা করে পার পেয়ে গেলে পরিণামে সে আরও ঘৃণ্য অপকর্মে প্ররােচিত হয়। তখন সে অসীম স্রষ্টার বিরুদ্ধে স্পর্ধা প্রকাশেও দ্বিধা করে না। তখন মানবতার সেই শত্রুকে কঠোর হস্তে শাস্তি প্রদান করে বিশ্ব-বিধাতার ন্যায়ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করতে হয়

ক্ষমা মহতের ধর্ম, শক্তিমানের ঐশ্বর্য কিন্তু ক্ষমা যদি অসহায়ের দুর্বলতা রূপে উপেক্ষিত হয়, তবে মহৎ ক্ষমার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায় তাই ক্ষমার মাহাত্ম রক্ষায় মানুষকে কঠোর হতে হয়। ক্ষমা পরিহাসকারী অপরাধীর উপযুক্ত দণ্ড বিধান করে প্রতিষ্ঠা করতে হয় সত্য ন্যায়ের অম্লান মহিমা।


Share This Post

Post Comments (0)



Notice Board

Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম