বাল্যবিবাহ প্রতিরােধের প্রয়ােজনীয়তা’ বিষয়ে একটি ভাষণ প্রস্তুত কর-ভাষণ

বাল্যবিবাহ প্রতিরােধের প্রয়ােজনীয়তাবিষয়ে একটি ভাষণ প্রস্তুত কর।

বাল্যবিবাহ প্রতিরােধের প্রয়ােজনীয়তা' শীর্ষক আলােচনা সভার সম্মানিত সভাপতি, প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, মঞ্চে উপবিষ্ট আলােচকবৃন্দ উপস্থিত সুধীমণ্ডলী সবাইকে জানাই শুভেচ্ছা অভিনন্দন।

আলােচনার শুরুতেই আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যারা যুগােপযােগী আলােচনা সভার আয়ােজন করেছেন এবং আমাকে কিছু বলার সুযােগ করে দিয়েছেন।

সম্মানিত সুধী

বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি যা অশিক্ষা অসচেতনতার ফল। বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগােষ্ঠীতে এখনও বাল্যবিবাহ প্রচুর প্রচলিত। তবে সামাজিক পরিবর্তন, শিক্ষার হার বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাল্যবিবাহের হার দিন দিন কমলেও তা সন্তোষজনক নয়। শহরের তুলনায় গ্রামেই বাল্যবিবাহের প্রচলন বেশি। সম্মানিত সুধীমণ্ডলী বাল্যবিবাহ নিরােধ আইন অনুযায়ী ২১ বছরের নিচের কোনাে ছেলের এবং ১৮ বছরের নিচের কোনাে মেয়ের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ বলে গণ্য করা হয়। এক্ষেত্রে বর কনের যেকোনাে একজনের বয়স যদি নির্ধারিত বয়সের কম হয় তবে তাও বাল্যবিবাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযােগ্য অপরাধ।

প্রিয় সুধীমণ্ডলী

বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক কুপ্রথা। বাল্যবিবাহের প্রচলিত ধারা কোনাে একক বিষয়ের ফল অনেক উপাদান বাল্যবিবাহকে ৎসাহিত করে থাকে। বাল্যবিবাহের প্রধান কারণসমূহ হলাে- সামাজিক ঐতিহ্য, কন্যাদায়গ্রস্ততা, অজ্ঞতা অসচেতনতা, অশিক্ষা বা শিক্ষাহীনতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, দরিদ্রতা, নারীর নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুক প্রথার প্রভাব প্রভৃতি।

উপস্থিত সুধীমণ্ডলী। সুদূর অতীতকাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে বাল্যবিবাহের প্রচলন বিদ্যমান। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রচলন ছিল। বর্তমানে সে ধারার কিছু পরিবর্তন হলেও এখনও তা বিদ্যমান। কেননা বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকার অধিকাংশ মানুষ অশিক্ষিত অসচেতন। তারা আইন এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে উদাসীন। তাই কোনাে ভালাে প্রস্তাব পেলে তারা সুযােগ হাতছাড়া করতে চায় না। বরং ৎসাহিত হয়ে বালিকা কন্যাকে বিবাহ দেয়। ফলে সমাজে বাল্যবিবাহ চলতেই থাকে। কিন্তু অধিকাংশ অভিভাবকের ধারণাই নেই যে বাল্যবিবাহের ভবিষ্য পরিণতি সম্পর্কে। অথচ বাল্যবিবাহের কারণে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যা সামাজিক বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। এছাড়াও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, শিশু স্বাস্থ্যহীনতা পুষ্টিহীনতায় ভােগে, মাতৃমৃত্যু শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়।

সম্মানিত সুধীমণ্ডলী

বাল্যবিবাহ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে। তাই সমগ্র দেশব্যাপী বাল্যবিবাহ সমস্যার প্রতিকার প্রতিরােধের জন্য যুগােপযােগী কর্মসূচি প্রণয়ন অপরিহার্য। আমাদের উচিত বাল্যবিবাহ প্রতিরােধের লক্ষ্যে এর কুফল বর্ণনা করে জনগণকে সচেতন করে তােলা।

আপনাদের আন্তরিক অভিনন্দন ভালােবাসা জানিয়ে এখানেই শেষ করছি।


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম