মােবাইল ফোনের অপব্যবহারে জনজীবন হুমকির সম্মুখীন-প্রতিবেদন

মােবাইল ফোনের অপব্যবহার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লিখ।

প্রতিবেদনের প্রকৃতি          : সংবাদ প্রতিবেদন

প্রতিবেদনের শিরােনাম       : মােবাইল ফোনের অপব্যবহারে জনজীবন হুমকির সম্মুখীন

প্রতিবেদন তৈরির স্থান      : ‘এলাকা

প্রতিবেদন তৈরির সময়     : সকাল ১১:০০টাবিকাল :০০টা

তারিখ                      : ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সংযুক্তি                     : কপি ছবি (মােবাইল ফোন অপব্যবহারকারী জনের ছবি)

মােবাইল ফোনের অপব্যবহারে জনজীবন হুমকির সম্মুখীন

বর্তমানকালে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর আবিষ্কারগুলাের মধ্যে মােবাইল ফোন অন্যতম। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মােবাইল ফোনের ব্যবহারের ফলে এখন অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে। যােগাযােগের ক্ষেত্রে মােবাইলের ভূমিকা অপরিহার্য। মােবাইল ফোন ছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবন যেন অচল হয়ে পড়ে। পৃথিবীর যেকোনাে প্রান্তেই এখন মােবাইল ফোন দিয়ে যােগাযােগ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে মােবাইলের যেমন সুবিধা আছে, তেমনই অসুবিধাও আছে। কারণেই মােবাইল ব্যবহারকারীদের মােবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়া প্রয়ােজন। মােবাইল ফোনের অপব্যবহার সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছেন। নিম্নে সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলাে-

মােবাইল ফোনের অপব্যবহার সম্পর্কে মতামত।

. মােবাইল ফোনে মাত্রাতিরিক্ত আলাপ সৃজনশীল মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রে অন্তরায়। এর কারণে নানা ধরনের শারীরিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

. মােবাইলের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীরা হুমকি প্রদান করে মানুষের মনে ভীতি সঞ্চার করে থাকে। ধরনের কার্যকলাপ সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

. মােবাইল ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে অশালীন ছবি তুলছে, কুরুচিপূর্ণ অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিওচিত্র ধারণ করাসহ নানারকম অনৈতিক কার্যকলাপ করে মােবাইলের চরম অপব্যবহার করছে।

. চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, সন্ত্রাস প্রভৃতি অসামাজিক কার্যকলাপে মােবাইল ফোন দুষ্কৃতকারীরা সহায়ক যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সমাজের চরম ক্ষতিসাধন করছে।

. সড়ক দুর্ঘটনায় মােবাইল ফোনের অপব্যবহারকেই দায়ী করেছেন অনেকে। মােবাইল ফোনে কথা বলতে সড়কে গাড়ি চালানাে কিংবা ড্রাইভিং অবস্থায় ফোন কল রিসিভ করতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটায়। ধরনের দুর্ঘটনায় অনেক মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে পড়ে।

. মােবাইল ফোনের অপব্যবহার করে, মেয়েদেরকে নানাভাবে উত্যক্ত করা হয়। ফলে সমাজে নানা ধরনের ভয়াবহ ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। এসব ঘটনার বলি হতে হয় অনেক তরুণ নিস্পাপ প্রাণকে।

. মােবাইলের মাধ্যমে সহজেই সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীরা নাশকতামূলক কার্যক্রম সংঘটিত করতে পারে। মােবাইলের নেটওয়ার্কের কারণে অগ্রিম সংবাদ পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে ফাঁকি দিয়ে নানা ধরনের অপকর্ম করে থাকে।

. মােবাইলে মিথ্যা বলার প্রবণতাও লক্ষ করা যায়। নিজের অবস্থান সম্পর্কে প্রায়ই বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়া যায়। এতে করে নৈতিক মূল্যবােধের চরম অবক্ষয় ঘটে।

. অনেকেই মােবাইলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপ্রয়ােজনীয় কথাবার্তা বলে। এতে যেমন অর্থের অপচয় ঘটে তেমনই মূল্যবান সময়ও নষ্ট হয়।

১০. ধর্মীয় উপাসনালয়, সভা, সেমিনারে, শ্রেণিকক্ষে কিংবা সময়ে-অসময়ে মােবাইলের রিংটোন বেজে ওঠা খুবই বিরক্তিকর; এর ফলে ধ্যান-সাধনা স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটে।

১১. মােবাইল ফোনের কারণে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় অনেক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। তারা লেখাপড়ার (পরিবর্তে মােবাইলের পিছনেই অধিক সময় ব্যয় করে থাকে। এটা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

১২. মােবাইল ফোনের রেডিয়েশন মানবদেহের ক্ষতিসাধন করে থাকে। এর রেডিয়েশন মানুষের দেহে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে ব্রেন টিউমারের মতাে কঠিন রােগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। এছাড়া স্নায়ুতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্থ করে কটিরেখা, রক্তের উপাদানগত পরিবর্তনেও রেডিয়েশন প্রভাব ফেলতে পারে। আজকাল যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেই আমাদের নিত্য পথ চলা। যান্ত্রিকতা মানুষকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ আরাম দিলেও অনেক সমস্যার উদ্রেক ঘটিয়েছে। যােগাযােগের ক্ষেত্রে মােবাইল যেন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেছে। তাৎক্ষণিক যােগাযােগ করার ক্ষেত্রে মােবাইলের বিকল্প এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। প্রত্যেকটি জিনিসেরই নেতিবাচক এবং ইতিবাচক দুটি দিকই থাকে, মােবাইল ব্যবহারকারীরা মােবাইল ব্যবহারের নেতিবাচক দিকগুলাে পরিহার করে ইতিবাচক দিকগুলােকে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ থেকে অনেক সমস্যা দূরীভূত হবে। তাই ব্যাপারে সকলের সহযােগিতা সচেতনতা একান্ত কাম্য।


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম