ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপে শঙ্কিত এলাকাবাসী : সীমাহীন উদ্বেগে কাটছে জীবন-প্রতিবেদন

তােমার এলাকায় ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ, কারণ প্রতিকার সম্পর্কে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা কর।

প্রতিবেদনের প্রকৃতি        : সংবাদ প্রতিবেদন

প্রতিবেদনের শিরােনাম     : ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপে শঙ্কিত এলাকাবাসী : সীমাহীন উদ্বেগে কাটছে জীবন

প্রতিবেদন তৈরির সময়    : বিকাল :০০টা।

তারিখ                          : ১০ই অক্টোবর ২০১৯

সংযুক্তি                          : হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রােগীদের ছবি (৩টি)

ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপে শঙ্কিত এলাকাবাসী : সীমাহীন উদ্বেগে কাটছে জীবন

বর্তমানকালে আমাদের জাতীয় জীবনে যে রােগটি আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে সেটি হলাে ডেঙ্গুজ্বর। হঠাৎ করেই রাজধানীতে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রােগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গুজ্বর রােগীর জন্য তীব্র যন্ত্রণাদায়ক। এটি রােগীর জন্য প্রাণঘাতীও হতে পারে।

ডেঙ্গুজ্বর হলাে এডিস মশাবাহিত এক ধরনের আরএনএ (RNA) ফ্ল্যাবি ভাইরাসজনিত তীব্র জ্বর। ভেজা, পুঁতিগন্ধময় স্যাতসেঁতে জায়গায় ডেঙ্গু ভাইরাস জন্ম নেয়। এডিস মশার বসবাসস্থলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর এডিস মশা বাহক হিসেবে ভাইরাসকে মানবদেহে পৌছে দিয়ে ডেঙ্গুজ্বরের মতাে বিপত্তি ডেকে আনে। ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে পরিবেশগতভাবেই সংক্রমিত হতে পারে। তবে এডিস মশার দ্বারা এটি সহজেই মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি রােগে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করেন। কার্যকর নিরাময় ব্যবস্থা না থাকায় রােগ প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সম্প্রতি রাজধানীতে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত বনশ্রীতেও এর প্রভাব পড়েছে। বনশ্রীর বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, গত দু-তিন মাস থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় হঠাৎ করেই মশার প্রকোপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে মশা বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। তাছাড়া শখের বশে অনেকে বারান্দায় টবে ফুলের গাছ লাগানাের পাশাপাশি নানা ধরনের গাছ লাগানাের কারণে এসব টবে বৃষ্টির পানি জমে সেখানে এডিস মশার জন্ম হচ্ছে। মশার উপদ্রবে অনেকের রাতের ঘুম হারাম হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এলাকাবাসীর অনেকে অভিযােগ করেন যে, মশার উপদ্রব বাড়লেও উত্তর বা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কোনাে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম লক্ষ করা যায় না। মশার যন্ত্রণায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়াও বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত ১০ বছরের তুলনায় বছরই দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রােগীর সংখ্যা ২৬৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে জানা যায় যে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে পর্যন্ত জন রােগী মারা গেছেন। রাজধানীর বড়াে ৪০টি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ডেঙ্গু আক্রান্ত রােগীর তথ্য সরকারকে দেওয়া হচ্ছে। সরকারকে প্রদেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতাল ক্লিনিকে ভর্তি আছে ৯৯ জন। এর মধ্যে বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিকে ৭২ জন, অ্যাপােলাে হাসপাতালে জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে জন, বারডেম হাসপাতালে জন, হলি ফ্যামিলিতে জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, সােহরাওয়ার্দী হাসপাতালে জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে জন, স্কয়ার হাসপাতালে ১১ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে জন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে জন রােগী ভর্তি আছেন।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, ডেঙ্গুজ্বর একটি মশাবাহী রােগ। এই রােগের উৎস হলাে এডিস মশা। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়, প্রধানত বর্ষার শুরুতে কিংবা শেষের দিকে এই রােগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এডিস ইজিপটাই এলবােপিকটাস নামক দুই প্রজাতির স্ত্রী মশাই ডেঙ্গুজ্বরের বাহক। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। স্যালাইন গ্রহণের মাধ্যমে পানিশূন্যতা কমতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শরবত জাতীয় পানীয় পান না করানােই ভালাে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তক্ষরণ হয় তবে অবশ্যই তার রক্তের গ্রুপ জানতে হবে। মাথায় বেশি করে পানি ঢালা, গা মােছা ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপায়েই জ্বর কমাতে হবে। জ্বর সেরে যাওয়ার পর শরীরের অসহনীয় ক্লান্তি দূর করতে ভিটামিন এনার্জিযুক্ত খাবারসহ শাকসবজি আমিষজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে।

বর্তমানে রােগ মানুষের উৎকণ্ঠার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশাবাহিত রােগ নির্মূলে মশক নিধন অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যদি সচেতনতা অবলম্বন করে চলে তবে ডেঙ্গুজ্বরের হাত থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে পারে।


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম