গড়াইটিপির অমরাবতী মেলা-প্রতিবেদন

তােমার দেখা একটি গ্রামীণ মেলার ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি কর।

প্রতিবেদনের প্রকৃতি          : সংবাদ প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনের নাম            : গড়াইটিপির অমরাবতী মেলা।

প্রতিবেদনের সময়           : বিকাল ৪টা।

প্রতিবেদনের তারিখ         : ২৯শে জুন ২০১৯।

সংযুক্তি                      : মেলার মাঠের ছবি।

গড়াইটিপির আমরাবতী মেলায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

চুয়াডাঙ্গা জেলার গড়াইটিপি গ্রামে আয়ােজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী গড়াইটিপি অমরাবতী মেলা। প্রতি বছরের ন্যায় বছরও ১লা আষাঢ় স্থানীয় সাংসদ মেলার উদ্ববাধন করেন। আজ মেলার শেষদিন ক্রেতা-বিক্রেতার পদভারে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, হজরত খাজা মালিক উল গাউস (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে প্রাচীনকাল থেকে এখানে মেলা বসে। প্রথমদিকে মেলা ছােটো আকারে শুরু হলেও বর্তমানে অঞ্চলের বৃহত্তম মেলায় পরিণত হয়েছে। মূল মেলার পরিধি প্রায় বর্গকিলােমিটার হলেও মেলার প্রবেশমুখের রাস্তার দু'পাশে এক থেকে দেড় কিলােমিটার জুড়ে ফার্নিচারের দোকান বসে। মেলা উপলক্ষ্যে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মেলার ব্যাপ্তিকাল এক সপ্তাহ হলেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতির। ওপর ভিত্তি করে আরও এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলা রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

আজ শেষ দিনে রংবেরঙের পােশাক-আশাক, পরা, শিশু-কিশাের, তরুণ-তরুণীসহ্নানা শ্রেণিপেশার মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কোথাও তিল ধারণের ঠাই নেই। মেলার এক এক অংশে এক এক ধরনের পণ্যসামগ্রীর দোকান। তবে মেলার বড়াে: একটি অংশে রয়েছে শিশুদের আনন্দদায়ক নানান খেলনা, যেমনপুতুল, মাটির তৈরি পশু-পাখির ভাস্কর্য। রয়েছে প্লাস্টিক এবং ইলেকট্রনিক খেলনা সামগ্রী, বিভিন্ন ধরনের বাঁশি, ঢােল, বাদ্যযন্ত্র। মেলার আরেক অংশে রয়েছে নানা ধরনের মণ্ডা-মিঠাইয়ের দোকান। এছাড়াও রয়েছে গৃহস্থালি কাজের জিনিসপত্র যেমন- ডালা, কুলা, চালুনি, বেলুন-পিঁড়ি, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন

ধরনের মাটির তৈরি জিনিসপত্র। এসবের পাশে বসেছে কুটির শিল্পের বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। তরুণ-তরুণীদের বিনোদনের জন্য মেলার বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে নাগরদোলা, বায়ােস্কোপ, লটারি, জাদুর খেলা ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে বাঙালির গ্রামীণ ঐতিহ্য যাত্রাপালা, সার্কাস, পুতুল নাচ প্রভৃতি বিনােদনের ব্যবস্থা

প্রতি বছর মেলা শিশু-কিশােরসহ সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে এক অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে। গ্রামের নিস্তরঙ্গ জীবনে রূপ নেয় প্রাণের উৎসবে। উৎসবের রেশ এলাকার মানুষের মধ্যে অনেক দিন থেকে যায়।


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম