বিজয় দিবস উদ্যাপনের বর্ণনা দিয়ে তােমার বন্ধুর কাছে পত্র লেখ।

বিজয় দিবস উদ্যাপনের বর্ণনা দিয়ে তােমার বন্ধুর কাছে পত্র লেখ।

লালবাগ, ঢাকা।

১৮ই ডিসেম্বর ২০১৯

প্রিয় মালা

আমার আন্তরিক ভালােবাসা বিজয়ের শুভেচ্ছা নিও। গতকাল তােমার পত্র পেয়েছি। পত্র পাঠে তােমার বিস্তারিত কুশল সংবাদ জেনে চিন্তামুক্ত হলাম। এবারের বিজয় দিবস আমরা কীভাবে উদযাপন করেছি তা জানতে চেয়েছ। আমাদের জাতীয় জীবনের এরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনের কথা জানতে চাওয়ায় তােমাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। বস্তুত ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গৌরবের দিন, আনন্দের দিন, আবার বেদনারও দিন। আজ আমি আমাদের কলেজে উদযাপিত বিজয়। দিবসের অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে তােমাকে কিছু লিখতে চাই।

এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা কলেজ প্রাঙ্গণে সমবেত হই। মাইকে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত আমার সােনার বাংলা আমি তােমায় ভালােবাসি... অধ্যক্ষ মহােদয় স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সােনালি সূর্যের দীপ্ত হাসিতে ভরে ওঠে প্রকৃতির আঙিনা। আমরা দাঁড়িয়ে সসম্মানে জাতীয় পতাকাকে সালাম জানাই। অতঃপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতার জন্য জীবন সর্গকারী শহিদদের বিদেহী আত্মার প্রতি। দেশ জাতির সার্বিক মঙ্গল কল্যাণের জন্য আমরা সবাই মিলে দৃঢ় শপথ গ্রহণ করি। এরপর সকাল আটটায় শুরু হয় কলেজের বয়স্কাউটদের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এর। মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিবসটির প্রথম পর্বের অনুষ্ঠানমালা। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সকাল ১১টায়। দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবােধক গান, বিজয় দিবসের তাপর্যের ওপর আলােচনা এবং উপস্থিত বক্তৃতা। বিকালে কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত 9 হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এতে অংশগ্রহণ করে প্রথম বর্ষ এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা। সন্ধ্যায় কলেজ প্রাঙ্গণ আলােকসজ্জায় সজ্জিত 3 করা হয়। সন্ধ্যা সাতটায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হয় মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটককবর’।

সব মিলিয়ে এবারের বিজয় দিবস উদ্যাপন খুবই উপভােগ্য হয়েছে। তােমাদের কলেজে কীভাবে বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে তা জানালে খুশি হব। তােমার পত্রের অপেক্ষায় রইলাম। আজ আর নয় । ভালাে থেকো।

ইতি

তােমার প্রীতিধন্য

কুসুম


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম