কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখ।

কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুকে একটি পত্র লেখ।

ব্রজমােহন কলেজ, বরিশাল।

১০ই ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সুপ্রিয় সজল

আমার আন্তরিক ভালােবাসা শুভেচ্ছা নিও। আশা করি, সবান্ধব সার্বিক দিক থেকে ভালাে আছ। গত সপ্তাহে তােমার চিঠি পেয়েছি। তুমি আমাদের কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতার খবরাখবর জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছ। কিন্তু আমাদের কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতা সবেমাত্র শেষ হয়েছে বিধায় তােমার চিঠির উত্তর দিতে কিছুটা বিলম্ব হলাে।

গত ৮ই ফেব্রুয়ারি শেষ হলাে আমাদের কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতা, শুরু হয়েছিল ৬ই ফেব্রুয়ারি। অবশ্য তােড়জোড় চলছিল বেশ কদিন আগে থেকেই। প্রথম পর্যায়ে অনুশীলন, তারপর দুদিন চলল বাছাই পর্ব।আমাদের শরীরচর্চা শিক্ষক ক্রীড়া সম্পাদকের সে কী ব্যস্ততা! ৬ই ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় কুয়াশায় ঘেরা কলেজ ময়দানে মাননীয় অধ্যক্ষ মুক্ত আকাশে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আমি প্রতিযােগীদের কুচকাওয়াজ পরিচালনা এবং মশাল জ্বালিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ করি। মাঠের এক কোণে শিক্ষকমণ্ডলী অতিথিদের জন্য সুসজ্জিত প্যান্ডেল তৈরি করা হয়। প্রতি বছরেরমতাে এবারও বিভিন্ন ইভেন্টে অনেক প্রতিযােগী অংশগ্রহণ করে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযােগিতাকে উপভােগ্য করে তুলেছিল। এর মধ্যে ওঁ উল্লেখযােগ্য ছিল দৌড়, হাই-জাম্প, লং-জাম্প, বর্শা নিক্ষেপ, চাকতি নিক্ষেপ, সাঁতার ইত্যাদি। তুমি শুনে খুশি হবে যে, আমি ৪০০ মিটার দৌড়, হাই-জাম্প লং-জাম্প তিনটি ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রত্যেকটিতে প্রথম হয়ে বছরও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। সবচেয়ে মজার প্রতিযােগিতা ছিল শিক্ষকমণ্ডলীরধীরে হাঁটাইভেন্ট। ক্রীড়া শিক্ষক প্রতিযােগিতা শুরুর বাঁশি বাজানাের পর সকল শিক্ষক এক তালে হেঁটে গিয়ে সবাই প্রথম স্থান অধিকার করেন।

যেমন খুশি তেমন সাজপ্রতিযােগিতায় বিজ্ঞান বিভাগের খাইরুল গুলিবিদ্ধ মুক্তিযােদ্ধার সাজ সেজে প্রথম স্থান অধিকার করে। ৮ই ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অধ্যক্ষ মহােদয় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। অতঃপর সভাপতি মহােদয় তার জ্ঞানগর্ভ ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘােষণা করেন। এই ছিল আমাদের কলেজে বছরের বার্ষিক ক্রীড়া আয়ােজন। তােমাদের কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান হয়েছে কি না জানাবে। তােমার আব্বা-আম্মাকে আমার সালাম ছােটোদের আদর দিও। আজ তাহলে পর্যন্তই। ভালাে থেকো।

ইতি

তােমার বন্ধু

রায়হান

[পত্র লেখা শেষে খাম এঁকে খামের ওপরে ঠিকানা লিখতে হয়]


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম