তােমাদের এলাকায় বিজয় দিবস উদযাপনের বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখ।

তােমাদের এলাকায় বিজয় দিবস উদযাপনের বর্ণনা দিয়ে প্রবাসী বন্ধুর কাছে একটি পত্র লেখ।

আগৈলঝাড়া, বরিশাল।

২০শে ডিসেম্বর ২০১৯

সুপ্রিয় সমীর

প্রাণঢালা শুভেচ্ছা আন্তরিক ভালােবাসা নিও। বহুদিন পরে তােমার সুন্দর চিঠিখানা পেয়ে বেশ ভালাে লাগল। তােমার চিঠিতে দেশের জন্য বড়াে আকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। বস্তুত মা, মাটি, মানুষ তথা জননী-জন্মভূমির প্রতি মানুষের যে সহজাত টান তা বিদেশে অবস্থানকালেই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়তারই প্রতিফলন ঘটেছে তােমার চিঠিতে। আমাদের এলাকায় এবারের বিজয় দিবস আমরা কীভাবে উদযাপন করেছি তা তুমি জানতে চেয়েছ। আজ আমি তােমাকে সে সম্বন্ধেই লিখছি।

সমীর, ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় ডিভি লটারিতে তুমি যেদিন আমেরিকা চলে গেলে, সেদিন আমার ভেতর আনন্দ-বেদনা দুটোই কাজ করছিল। কেননা মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে, মানুষকে প্রগতিশীল করে তুলতে এলাকাভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চার উদ্যোগ আমরা যে কয়জনে মিলে নিয়েছিলাম তার মধ্যে তুমি ছিলে অন্যতম। তাই তােমার উন্নত জীবনের সম্ভাবনায় আনন্দিত হলেও তােমার মতাে বন্ধুর সান্নিধ্য হারাতে হচ্ছে ভেবে সেদিন খুব বেদনাও বােধ করেছিলাম। যাইহােক, আমাদের এলাকায়অগ্রদূত যুব সংঘ’-এর পক্ষ থেকে এবারও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বিজয় দিবস উদ্যাপন করা হয়। তুমি তাে জানাে, বিজয় দিবস তথা ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গৌরবােজ্জ্বল একটি দিন, আনন্দের দিন আবার বেদনারও দিন। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর সুদীর্ঘ এই নয় মাস রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে, ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি বীর যােদ্ধারা বিজয় অর্জন করে। এদিন সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরাঅগ্রদূত যুব সংঘেচলে আসি। যদিও আগের দিনই সব আয়ােজন সম্পন্ন করে রাখা হয়। ক্লাব প্রাঙ্গণে বড়াে করে শামিয়ানা টানানাে হয়। মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়। রঙিন কাগজ কেটে সাজানাে হয় ক্লাব ঘর তার প্রাঙ্গণ। ক্লাব প্রাঙ্গণে এলাকার আপামর জনতা উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফোনে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত আমার সােনার বাংলা আমি তােমায় ভালােবাসি...' আমাদের এলাকার শ্রদ্ধেয় দুজন শিক্ষক চেয়ারম্যান মহােদয় মিলে পতাকা উত্তোলন করলেন। আমরা দাঁড়িয়ে সসম্মানে জাতীয় পতাকাকে সালাম জানাই। অতঃপর এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা জানাই স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী লাখাে শহিদের বিদেহী আত্মার প্রতি। দেশ জাতির সার্বিক মঙ্গল কল্যাণের জন্য আমরা সবাই মিলে দৃঢ় শপথ গ্রহণ করি। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানমালার প্রথম পর্ব শেষ হয়।

দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠানমালা শুরু হয় বিকাল ৩টায়। এর মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল বিজয় দিবসের তাৎপর্যের ওপর আলােচনা, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবােধক গান এবং নৃত্য। সন্ধ্যা ছয়টায় এলাকায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মঞ্চস্থ হয় প্রখ্যাত নাট্যকার মুনীর চৌধুরীর বিখ্যাত নাটককবর । সব মিলিয়ে এবারের বিজয় দিবস উদ্যাপন খুবই উপভােগ্য হয়েছে। আজ আর নয়। তােমার ওখানে কেমন কী চলছে তা জানিও। ভালাে থেকো। তােমার চিঠির অধীর প্রতীক্ষায় থাকলাম।

ইতি

তােমার প্রতিধন্য

প্রসেঞ্জিত বিশ্বাস

(পত্র লেখা শেষে খাম এঁকে খামের ওপরে ঠিকানা লিখতে হয়)


Share This Post

Post Comments (0)



Latest Post

Suggestion or Complain

সংবাদ শিরোনাম